বঙ্গনিউজবিডি প্রতিনিধি : রাজধানী ঢাকায় গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা মিলছে পাইপলাইনের গ্যাস। মাঝ রাতে গ্যাস এসে ভোরেই চলে যায়। কোনো কোনো এলাকায় দিনের বেলায় গ্যাস মিললেও চুলা নিভু নিভু করে। কোনো কোনো সময় বিনা ঘোষণায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার ঘটনা ঘটছে। এমন চিত্র পাওয়া গেছে রাজধানীর শনির আখড়া, দনিয়া, কাজলা,যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, কুড়িল বিশ্বরোড, নর্দ্দা, বেইলি রোড, মগবাজার ওয়্যারলেস গেট, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে রাজধানীবাসী।
দনিয়া এলাকার বাসিন্দা আলী আহমেদ মিয়াজী বলেন গত ৪-৫ দিন যাবৎ লাইনের গ্যাস নেই। রাত ১১টার পর মাঝে মধ্যে আসে ভোরে চলে যায়। রান্না করতে অতিরিক্ত সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে জনজীবনে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শনির আখড়ার বাসিন্দা মোসাঃ শাহানাজ আক্তার বলেন, খুব অশান্তি মধ্যে আছি। সারা রাত্রি অপেক্ষা থাকি কখন গ্যাস আসবে।
কোনো ঘোষণা ছাড়াই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আগে গ্যাস বন্ধের আগে জানিয়ে দিতো তিতাস। এতে বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
নদ্দা এলাকার গৃহিণী লিজা বলেন, ‘আগে গ্যাস না থাকলে ঘোষণা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হতো। এখন ঘোষণা ছাড়াই গ্যাস থাকে না। আগে সামান্য গ্যাস থাকলে চুলা জ্বালিয়ে টুকটাক কাজ চালানো যেত। এখন চুলাই জ্বলছে না। রাত ১০টা-১১টার পর গ্যাস আসে, আবার ভোরে চলে যায়। বাচ্চাদের খাবার-দাবার তৈরি নিয়ে খুব ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে।
ট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় এখন একটি টার্মিনাল দিয়ে মাত্র ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ কূপ থেকে আরও ২০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। দেশে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে কমপক্ষে ৩ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের। ফলে বর্তমানে প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।