বিশেষ প্রতিনিধি : রাজধানী ঢাকায় একের পর এক লেভেলক্রসিংয়ের কারণে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, যা নগরজীবনকে কার্যত স্থবির করে তুলছে। ট্রেন চলাচলের সময় বারবার সড়ক বন্ধ রাখতে হওয়ায় ঢাকা যেন এক অবরুদ্ধ মহানগরীতে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্যমতে, ঢাকা মহানগরীতে বর্তমানে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে মোট ৬১টি লেভেলক্রসিং রয়েছে। প্রতিদিন ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এসব স্থানে প্রায় ১৬৪ বার ব্যারিয়ার নামাতে হয়। প্রতিবার গড়ে ৭ মিনিট করে যান চলাচল বন্ধ থাকায় দিনে মোট প্রায় ১৯ ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-টঙ্গী ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথে প্রতিদিন ৮৬টি আন্তনগর এবং ৭৮টি মেইল, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন চলাচল করে। ফলে এসব রুটে লেভেলক্রসিংগুলোতে দীর্ঘ সময় যানজট লেগেই থাকে।
এদিকে, বৈধ ৩৯টির পাশাপাশি ২২টি অবৈধ লেভেলক্রসিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক স্থানে রেলপথের ওপর অননুমোদিত সড়ক তৈরি হয়েছে, যেখানে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে গাড়ি ও পথচারীরা। এসব স্থানে বাজার ও বসতি গড়ে ওঠায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় রেল ও সড়কপথকে আলাদা রাখা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামসুল হকের মতে, ঢাকার লেভেলক্রসিংগুলো দীর্ঘদিন ধরেই যানজট ও দুর্ঘটনার বড় কারণ হয়ে আছে। এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের বিকল্প নেই।
সরকার ইতোমধ্যে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঢাকা-টঙ্গী ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথে গ্রেড সেপারেশন নিশ্চিত করতে ওভারপাস বা আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন সংস্থা এ প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালের এক সমীক্ষায় দেশের ৪৭টি লেভেলক্রসিংয়ে ওভারপাস বা আন্ডারপাস নির্মাণ এবং ১৯৪টি ক্রসিংয়ে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ঢাকার যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।