এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সপরিবারে সৌজন্য সাক্ষাৎ দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টার এই সাক্ষাৎ নিছক সৌজন্যতার গণ্ডি ছাড়িয়ে সমসাময়িক রাজনীতি ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।
স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তারেক রহমানের যমুনায় উপস্থিতি রাজনৈতিক শালীনতা ও পারিবারিক সৌহার্দ্যের বার্তাই দেয়। আলোচনায় আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সমসাময়িক নানা ইস্যু উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, প্রধান উপদেষ্টা প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান—যা রাজনৈতিক ভিন্নমতের মধ্যেও মানবিক সৌজন্যের নজির।
এই সাক্ষাৎ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরে তারেক রহমান সদ্য বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে নেতৃত্বে আসার পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। ফলে রাজনৈতিকভাবে এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
এর আগেও লন্ডনে অধ্যাপক ইউনূস ও তারেক রহমানের একান্ত বৈঠক হয়েছিল, যা তখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরেই প্রধান উপদেষ্টাকে ফোনে ধন্যবাদ জানানোর ঘটনাও পারস্পরিক সৌজন্যের ধারাবাহিকতাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। খালেদা জিয়ার জানাজায় তাঁদের সাক্ষাৎ এবং পরবর্তী এই বৈঠক রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সংলাপের একটি ধারাবাহিক চিত্র তুলে ধরে।
সব মিলিয়ে, যমুনার এই সাক্ষাৎ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংলাপ, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে এনেছে। সংঘাতের রাজনীতি নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ—এই বার্তাই যেন নীরবে উচ্চারিত হয়েছে যমুনার বৈঠককক্ষে। আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে এই সংলাপ কতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখে, সেদিকেই এখন দৃষ্টি জাতির।