বঙ্গ নিউজ বিডি প্রতিবেদক : রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে তার পরিবার।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ৩ থেকে ৪ জন অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীর সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে নিহত মুছাব্বিরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবারই তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে তেজগাঁওয়ের কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ সংলগ্ন তেজতুরী বাজারে স্টার কাবাবের পাশের গলিতে এ নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মুছাব্বির।
এই ঘটনায় কারওয়ানবাজার ভ্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সুফিয়ান মাসুদ গুলিবিদ্ধ হন। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে এটিকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যা বলে অভিহিত করা হচ্ছে। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করছেন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেই ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে প্রকাশ্যে গুলি করে একজন রাজনৈতিক নেতাকে হত্যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিরই প্রমাণ বলে মনে করছেন তারা।
দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার, ঘটনার নেপথ্যের শক্তি উন্মোচন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। অন্যথায় জনগণের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ আরও ভয়াবহ সংকটে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন তারা।