নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬)
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ একটি আইন জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে পাস হয়েছে। এর পাশাপাশি আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ও পাস হয়েছে।
শুক্রবার জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ‘শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ-২০২৬’ বিলটি উত্থাপন করেন। পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিলটি কণ্ঠভোটে দিলে সংসদ সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে তা পাস করেন।
বিলটি পাসের ঘোষণা দেওয়া হলে সংসদ কক্ষে দীর্ঘ করতালি ও টেবিল চাপড়ানোর মধ্য দিয়ে এটি স্বাগত জানানো হয়। অনেক সংসদ সদস্য একে ‘বিপ্লবের আইনি স্বীকৃতি’ হিসেবে অভিহিত করেন। এ সময় সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
আইনটির মূল লক্ষ্য হলো—জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের কল্যাণ, পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং আন্দোলনের আদর্শকে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠা করা। একই সঙ্গে এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।
উল্লেখ্য, মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১৭ জুন এ বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ জারি করে, যা এবার সংসদে পাসের মাধ্যমে স্থায়ী আইনে পরিণত হলো।
🏛️ পাস হলো ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল’
একই দিনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন, যা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিলাদি সংরক্ষণ, গবেষণা এবং জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।
তবে বিলটি পাসের সময় বিরোধী দলীয় সদস্যরা আপত্তি জানালেও তা বিধিসম্মত না হওয়ায় স্পিকার তা গ্রহণ করেননি।
📌 সংক্ষেপে
শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণে আইন পাস
অধ্যাদেশ থেকে স্থায়ী আইনে রূপান্তর
জুলাই আন্দোলনের আদর্শ রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
স্মৃতি সংরক্ষণে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত।