✍️ এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল, দাউদকান্দি, কুমিল্লা :
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার রাজনীতিতে এক নির্ভরযোগ্য ও পরীক্ষিত নাম—দিলারা শিরিন। টানা তিনবার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা যতই থাকুক না কেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই একজন নেতার সবচেয়ে বড় শক্তি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেত্রী ছাত্রজীবন থেকেই মাঠে রয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি, যা পরবর্তীতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মেঘনা উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি, কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপি’র সদস্য এবং মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি সংগঠনের ভিত শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাকে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।
তবে তার এই পথচলা ছিল নানা প্রতিকূলতায় ভরা। ২০১৮ সালে গ্রেফতার, নির্বাচনী সহিংসতা, রাজনৈতিক হয়রানি—সবকিছুই তাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে দৃঢ়তার সঙ্গে। এমনকি পরিবারের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও তাকে দমাতে পারেনি।
২০২৪ সালে নির্বাচন বর্জনের লিফলেট বিতরণকালে লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার ঘটনাও তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। বরং প্রতিটি সংকটেই তিনি প্রমাণ করেছেন—দলের প্রতি তার আনুগত্য এবং আদর্শের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে দমন-পীড়নের অভিযোগের মধ্যেও তিনি মাঠ ছাড়েননি। বরং ঝুঁকি নিয়েই দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে গেছেন।
শিক্ষাজীবনেও তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন সুসংগঠিতভাবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে রাজনীতি ও জনসেবাকে আরও জ্ঞানভিত্তিক করেছেন।
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনের বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর আস্থাভাজন হিসেবেও তিনি পরিচিত। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই আস্থা তার রাজনৈতিক গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতারই প্রতিফলন।
সব মিলিয়ে, দিলারা শিরিন এখন শুধু একজন জনপ্রতিনিধি নন—তিনি তৃণমূল রাজনীতির এক দৃঢ় প্রতীক। সংগ্রাম, ত্যাগ এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই নেত্রীর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।