স্টাফ রিপোর্টার : অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। পাশাপাশি ১৫টি সংশোধন করে এবং ১৬টি আরও যাচাই-বাছাইয়ের পর ভবিষ্যতে উত্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব ২০টি অধ্যাদেশ এখনই সংসদে বিল হিসেবে তোলা হচ্ছে না, সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পেলে কার্যকারিতা হারাবে। সংবিধান অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে তা বাতিল হয়ে যায়।
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বিচার বিভাগ ও সংসদ সচিবালয় সংশ্লিষ্ট ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, সচিবালয় কাঠামো এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয় সম্পর্কিত অধ্যাদেশ উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া ১৬টি অধ্যাদেশ ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করে নতুনভাবে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার কমিশন, গণভোট, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ।
অন্যদিকে ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিতভাবে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট কল্যাণ, স্মৃতি সংরক্ষণ, নিরাপত্তা, সাইবার সুরক্ষা, সরকারি চাকরি, ব্যাংক ও জ্বালানি খাতের সংশোধনীসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ আইন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) প্রদান করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে দেশের আইন কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বহু সিদ্ধান্ত স্থায়ী রূপ পাবে।