1. bdweb24@gmail.com : admin :
  2. him@bdsoftinc.info : Staff Reporter : Staff Reporter
শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ১০:২৭ অপরাহ্ন

শাওয়াল মাসের গুরুত্ব

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ৩ মে, ২০২৪
  • ৭০ বার দেখা হয়েছে

বঙ্গনিউজবিডি ডেস্ক: শাওয়াল আরবি বর্ষপঞ্জিকার দশম মাস। শাবান যেমন রমজানের আগমন বার্তাবাহক বরকতময় মাস। তেমনি শাওয়াল হলো রমজানের উপসংহারের মাস আবার হজের প্রস্তুতির মাস। এই মাসের প্রথম দিনই বিশ্ব মুসলিম একত্রিত হয় ঐক্যের মোহনায় ঈদ উদযাপন করেছে। একটি মাস সিয়াম সাধনার পর তারা নির্মল আনন্দে একজন অন্যজনের সাথে বুক মিলিয়ে, হাত মিলিয়ে ঐক্য ও সহাবস্থানের জানান দিয়েছে। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন নবায়ন করে নেয় ঈদ সম্মিলন থেকে। মানবতার পারস্পরিক কল্যাণের এই মিলনমেলা থেকে সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্বের শপথ নিয়ে বাড়ি ফেরে। বিশ্ব মুসলিম মিলনের আরেক স্তম্ভ হচ্ছে হজ, যা জিলহজ মাসে মক্কায় অনুষ্ঠিত হয়। হজের মৌসুম তিনটি মাসকে গণ্য করা হয় (শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ) শাওয়াল হলো, তার প্রথম মাস। অর্থাৎ শাওয়াল থেকেই শুরু হয় হজের প্রস্তুতি। তাই এ মাসটিও ইবাদতের এক বিশেষ মৌসুম। তা ছাড়া শাওয়াল শব্দটির আভিধানিক অর্থের দিকে লক্ষ করলে সহজেই অনুমান করা যায় এ মাসের গুরুত্ব অনেক।

শাওয়াল অর্থ উঁচু করা, উন্নত করণ, উন্নত ভূমি, পূর্ণতা, ফলবতী, পাল্লা ভারী হওয়া. গৌরব করা, বিজয়ী হওয়া, প্রার্থনায় হস্ত উত্তোলন করা বা ভিক্ষায় হস্ত প্রসারিত করা, পাত্রে অবশিষ্ট সামান্য পানি, ফুরফুরে ভাব, দায়ভারমুক্ত ব্যক্তি, ক্রোধ প্রশমন ও নীরবতা পালন, সিজন করা কাঠ। আরবি বছর বা হিজরি বছর অনুযায়ী রমজান মাসের পরের মাস হলো শাওয়াল মাস। এই মাসকে ‘শাওয়ালুল মুকারোম’ বলা হয়। রমজানের পর এই মাসের উল্লিখিত শাব্দিক অর্থের প্রতিটিই ইসলামের আলোকে তাৎপর্যপূর্ণ।

শাওয়াল মাসে কোনো মুসলমান ব্যক্তি যাতে রমজানের রোজা শেষে থেমে না যায়; বরং অল্প কিছু রোজা রেখে পুরো বছরের রোজা রাখার মর্যাদা লাভ করতে পারে তার এক মহাসুযোগ করে দিয়ে মহানবী সা: বলেছেন ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে ফরজ রোজা পালন করল, এরপর শাওয়াল মাসে আরো ছয় দিন রোজা পালন করল সে যেন সারা বছর রোজা রাখল।’ (মুসলিম-২৬৪৮, হাদিস একাডেমি, ইফা-২৬২৫ ই, সে-২৬২৪ আবু আইয়ুব আল আনসারি রা: থেকে বর্ণিত) নবী সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের সাওম রাখার পর পরই শাওয়াল মাসে ছয়টি সাওম রাখে, সে যেন পূর্ণ এক বছর রোজা রাখার সমান সওয়াব লাভ করে।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ)

রমজানের পর শাওয়ালের রোজা রাখার অর্থ কাজের ধারাবাহিকতা এবং রমজানের রোজা কবুল হওয়ার আলামত। রমজানের পর যদি তাকওয়ার ধারাবাহিকতা না থাকে, তবে বুঝতে হবে তার রমজানের সারা দিনের ক্ষুধা, কিয়ামুল লাইল, রাত্রি জাগরণ, ইবাদত কবুল হয়নি অর্থাৎ তার প্রশিক্ষণ ব্যর্থ। একটি সাধারণ মৌলিক কথা হলো-যেকোনো কাজ আগের কাজের সঠিকতার ওপর পরবর্তী কাজটি নির্ভর করে। আল্লাহর ইবাদতের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। একটি ভালো কাজ কবুল হওয়ার লক্ষণ হলো, ভালো কাজের পর আরেকটি ভালো কাজ করা। একটি ভালো কাজ করার পর আবার ভালো কাজ করা মানে প্রথমটি কবুল হওয়ার আলামত। ধারাবাহিকতা বজায় রাখা আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। বুখারির একটি হাদিস থেকে তাই জানা যায়। আয়েশা রা: থেকে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘যে কাজ কেউ সর্বদা (নিয়মিত) করে, সেটিই আল্লাহর কাছে প্রিয়তম।’ (বুখারি-৪৩, কিতাবুল ঈমান, এ হাদিসের ব্যাখ্যায় একজন ইসলামী স্কলার বলেছেন, ‘মুমিনের সব কাজই একটি নিয়ম-শৃঙ্খলার অধীন হওয়া উচিত। আল্লাহর দ্বীনের সব কাজই বেশ সাজানো-গোছানো। আল্লাহর সব কাজের মধ্যেও পরিপূর্ণ নিয়ম-শৃঙ্খলা বিরাজমান। দ্বীনের কাজ কখনো খুব বেশি করা কখনো খুব কম করা অথবা না করা আল্লাহ পছন্দ করেন না। অল্প হলেও সব কাজ সাজিয়ে গুছিয়ে রুটিন অনুযায়ী সর্বদা নিয়মিত করা আল্লাহ পছন্দ করেন। এতে তিনি বরকত দেন। আর এভাবে বাস্তব জীবন সুশৃঙ্খল ও সুনিয়ন্ত্রিত হয়।’ আল্লাহ তায়ালা বলেন-‘অবধারিত মৃত্যু আসা পর্যন্ত নিজের রবের বন্দেগি করে যেতে থাকো।’ (সূরা হিজর-৯৯)

রমজানের পর শাওয়ালের রোজা মানে তাকওয়ার ওপর অবিচলতার এক বিশেষ বহিঃপ্রকাশ।

রমজানের সিয়াম সাধনার একমাস ট্রেনিংয়ের পর শাওয়ালের সাওমের মাধ্যমে মুসলমানরা শয়তানকে এ জানান দেয় যে, শয়তান বা তাগুতের সাথে মুসলমানদের কোনো আপসকামিতা নেই। শাওয়ালের সাওমের মাধ্যমে মুসলিমরা যে হতোদ্যম হয় না সেই কথারই জানান দিয়ে থাকে। শয়তানের বিরুদ্ধে মুসলমানদের চিরন্তন সংগ্রাম চলছে, চলবে।

শাওয়াল হলো, আরেকটি ফরজ ইবাদাতের প্রস্তুতির মাস। সেটি হলো হজ। দুই মাস মুসলমানদের মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক সব ধরনের প্রস্তুতি চলে মহাসমারোহে। দু’মাস পরই হজ উপলক্ষে বিশ্ব মুসলিম মিলন হবে মক্কার সুবিশাল আরাফাতের ময়দানে। সেখানে সমবেত কণ্ঠে উচ্চারিত হবে- ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির! আমি হাজির! তোমার কোনো অংশীদার নেই, আমি হাজির। নিশ্চয় সমস্ত প্রশংসা ও নিয়ামত তোমারই, রাজত্ব তোমারই, তোমার কোনো শরিক নেই।’ হজের মৌসুম তিনটি মাসকে গণ্য করা হয় (শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ) শাওয়াল হলো, তার প্রথম মাস। অর্থাৎ শাওয়াল থেকেই শুরু হয় হজের প্রস্তুতি। তাই এ মাসটিও ইবাদতের এক বিশেষ মৌসুম।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ

© ২০২৩ bongonewsbd24.com