1. bdweb24@gmail.com : admin :
  2. him@bdsoftinc.info : Staff Reporter : Staff Reporter
শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
চাঁদপুরে একের পর এক বেরিয়ে আসছে ভয়ঙ্কর রাসেল ভাইপার, আতঙ্ক আফগানিস্তানের বিপক্ষে লড়াকু পুঁজি ভারতের দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি উৎপাদনরত রাশিয়ার দুটি জ্বালানি ডিপোতে ড্রোন হামলায় আগুন বেনজীর ও আছাদুজ্জামানের সম্পদ নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রমিকদের মৃত্যু নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বললেন ‘হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শনিবারের ছুটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চান্দিনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার ওপর হা-ম-লার প্র-তিবাদে মানববন্ধন শুল্ক ও বাড়তি কর বিদেশি বিনিয়োগে বড় বাধা: পলক মিয়ানমারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমরাও পাল্টা গুলি চালাবো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের তওবা এবং তার হজ্ব পূর্বাপর রাজনীতি

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০২২
  • ২০৩ বার দেখা হয়েছে

বঙ্গনিউজবিডি রিপোর্ট : বহুলালোচিত রাজনীতিবিদ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান চটকদার কথাবার্তা বলে চমক সৃষ্টি করায় বেশ পারদর্শী। সম্প্রতি তিনি স্বপরিবারে পবিত্র হজ্জব্রত পালন করে দেশে ফিরেছেন এবং যথারীতি শ্রুতিমধুর চটকদার কথাবার্তা প্রদান করা শুরু করে দিয়েছেন।

স্বপরিবারে হজ্জ যাত্রার প্রাক্কালে গত ১ জুলাই রাতে নিজ ফেইসবুক পেইজে লাইভে এসে বলেন,”আমি শয়তানও না, ফেরেশতাও না। আমি মানুষ আমার ভুল ত্রুটি হতে পারে, তাই আমাকে সবাই ক্ষমা করে দিবেন। যারা আমাকে পছন্দ করেন আর যারা আমাকে পছন্দ করেন না, সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।” তার এই বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের আপামর জনসাধারণ দল মত নির্বিশেষে সবাই সবাই এই মর্মে আশান্বিত হয়েছিলেন যে, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি হতে ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুনোখুনি, ভূমিদস্যুতা ইত্যাদি বিদায় নিবে এবং সুস্থ, সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, পরমত সহিষ্ণু একটি রাজনৈতিক কালচার গড়ে উঠবে। নারায়ণগঞ্জ বাসীর সে আশা-আকাঙ্ক্ষা ‘সফল হবে, না ব্যর্থ হবে’ তার আলোচনায় যাওয়ার পূর্বে সাংসদ শামীম ওসমানের কিছু পূর্বাপর কার্যকলাপ পর্যালোচনার দাবি রাখে।

  • তিনি প্রায়শই বলেন, ২০০১ সালে ১৬ জানুয়ারি তার উপর বোমা হামলা হয়েছিল। ২০ জন মারা গিয়েছিল। ঘাদানিক সভাপতি চন্দন শীল-সহ ২ জনের পা উড়ে গিয়েছিল। তাদের জার্মান পাঠিয়ে তিনি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। জার্মান সরকার তাদের দুই পরিবারকে পূর্ণ নাগরিকত্ব দিয়ে সেদেশে রেখে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারা দেশমাতৃকার ভালোবাসায় সে সুযোগ অগ্রাহ্য করে দেশে চলে এসেছিলেন। অত্যন্ত প্রশংসা যোগ্য সিদ্ধান্ত। দুঃখজনক ঐ ঘটনার কথা তিনি প্রায়শই উল্লেখ করে বলেন, বোম ব্লাস্ট হওয়ার কিছু পূর্বে একটি ফোনকল পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বিধায় জানে বেঁচে গিয়েছিলেন। তখন থেকেই নারায়ণগঞ্জ বাসীর অধিকাংশ লোক বলে আসছেন, তিনি নিজের জান বাঁচাতে দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করলেন অথচ যদি উপস্থিত সবাইকে সতর্ক করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে বলতেন তাহলে জানমালের এতো ক্ষয়ক্ষতি হতো না। চমক সৃষ্টি করার জন্য তিনি প্রায়শই বলে থাকেন, কেউ তাকে মেরে ফেলতে চায়। কিংবা তিনি হয়তো এখন মৃত্যু বরণ করবেন। এভাবে তিনি যে কতোবার মারা গেলেন তার ইয়ত্তা নাই। আবার এটাও বলেন, আমাকে মেরে ফেলতে চান ? আমার কাছে পিস্তল আছে, চন্দন শীলের কাছেও পিস্তল আছে ইত্যাদি ইত্যাদি।

‘খেলা হবে’ ভীতিকর এই শ্লোগানের প্রবক্তা শামীম ওসমান বক্তৃতা দিতে উঠার কিছুক্ষণ পরেই বলতে থাকেন, “মাথায় রক্ত উঠে যাচ্ছে। আর মাথায় যদি একবার রক্ত উঠেই যায় তাহলে কেউ মাঠে থাকবে না। ১৯৯৫ সালে ২৮৫ জনকে হত্যা করা হয়েছিল, আমি নিজে ৪৯ জনের দাফন কাফন করেছি।” সুতরাং খেলতে তার কোন সমস্যা নাই, তিনি আবারো খেলতে নামবেন মর্মে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।

মুখরোচক যেসব কথাবার্তা তিনি বলতে বেশ স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন তার দু’চারটা উল্লেখ করা যায়। যেমনঃ ছোটকাল থেকে রাজনীতি করি আমার পিঠে ৩ টি বাইসাইকেল ভাঙ্গা হয়েছিল, বিয়ের সময় গায় হলুদের দিন পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল, জিয়াউর রহমানের গাড়ি আটকে দিয়েছিলাম, খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর আটকে দিয়েছিলাম, ১৯৭৫ সালের বিয়োগান্ত ঘটনার পর আমার বড় ভাই নাসিম ওসমান পরিবারের স্বর্ণালংকার সব নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন প্রতিরোধ যুদ্ধে নামবেন বলে, আমার বাবা ৪-৫ টা বন্দুক নিয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করলেন কিছু একটা করবেন এই সংকল্পে, নারায়নগঞ্জ হতে মিছিল না বেরুলে নেত্রী ঘর থেকে বের হতেন না ইত্যাদি ইত্যাদি। এই প্রতিবেদক ঐ এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ লোকজনের সাথে আলাপকালে জানতে পারেন, ওসমান পরিবারের স্বর্ণালংকারসহ বিবিধ সম্পদ ছিল বা আছে বেশুমার। তৎকালে স্বর্ণালংকারসমূহ নিরাপদে স্থানে সরানোই ছিল উদ্দেশ্য। আর একজন ব্যক্তি ৪-৫ টা বন্দুক একা চালাবেন কি-করে!!!!

সাংসদ শামীম ওসমান সবসময় দাবি করে আসছেন, তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করছেন। দৈনিক ৭০-৮০ রাকাআত নফল নামাজ পড়েন। স্থানীয় বিবিধ ওয়াজ-মাহফিলে হাজির থাকা তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। এমনই এক ওয়াজ-মাহফিলে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, “আমার নবী (সাঃ)-কে নিয়ে কেউ কটুক্তি করলে তার গর্দান নামিয়ে ফেলবো।” কিন্তু ভারতের নূপুর শর্মার আপত্তিকর বক্তব্যের পর পুরো পৃথিবী যখন বিক্ষোভে উত্তাল তখন তিনি মুখে কুলুপ এঁটে একেবার চুপ মেরে বসে থাকলেন। অন্য মাহফিলে তিনি বললেন, ” আমার বলেছেন নামাজ পড়তে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন রাসুল সাঃ এর জীবনি পড়তে, প্রয়াত বড় ভাই বলতেন আল্লাহকে চিনতে ইত্যাদি।” কথায় কথায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মহোদয়ের রেফারেন্স দেওয়া তার এক চিরাচরিত কৌশল বা অভ্যাস।

গত ২৯ এপ্রিল এক ইফতার মাহফিলে শামীম ওসমান বললেন, “শরীরটা ভালো নয় তাই চিকিৎসা নিতে বিদেশ যাবো। ফিরে এসে সব অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে মাঠে নামবো। কোন ভাবে যদি মাথা গরম হয়ে যায় তাহলে সময় কিন্তু বেশি পাবেন না।” এসব গরম গরম কথা বলে স্বপরিবারে চলে গেলেন আমেরিকায়। বলেছিলেন চিকিৎসা নিবেন, কিন্তু এই প্রতিবেদক তার এলাকায় ব্যাপক খোঁজ খবর নিয়ে যা জানতে পারলেন, মানুষ যা বলেছে তাহলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অভিবাসন আইন মোতাবেক কোন বহিরাগত যিনি ঐ দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন তাকে বছরে কমপক্ষে এক মাস সেখানে অবস্থান করতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক। এই সময়টাতে তাকে টেক্স ফাইলসহ যাবতীয় দলিলপত্র হালনাগাদ করতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাওয়ার রিস্ক থাকে। শামীম ওসমান পরিবার আসলে সেখানে গিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনগুলো পালনার্থে। চিরাচরিত অভ্যাসগত কারণে এখানেও তিনি বললেন এক করলেন আরেক।

এদেকে গত ৩ জুন সাংসদ শামীম ওসমানের এক বিশ্বস্ত শিষ্য এড. খোকন সাহা এক সমাবেশে হুঙ্কার দিয়ে বললেন, ” ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন হবে। কাউকে বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না। নারায়ণগঞ্জ শামীম ওসমানের এলাকা, এখানে বিএনপি-কে নামতে দেওয়া হবে না।” অনুষ্ঠানে স্থানীয় ঘাদানিক নেতা চন্দন শীলও উপস্থিত ছিলেন। অথচ এলাকাবাসী জানে, গত নাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভি’র বিরুদ্ধে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা এড. তৈমুর আলম খন্দকার-কে নির্বাচনে নামিয়ে ছিলেন শামীম ওসমান। কৌশলে বিএনপির কিছু নেতাকে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত করেও এনেছেন তিনি। এড. তৈমুরের এক ভাইর কথা এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে। ফতুল্লা এলাকায় একজন সুপরিচিত বিএনপি নেতা সেখানকার ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করে এনেছেন শামীম ওসমান। কি অসাধারণ বৈপরীত্য।

নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভি যথারীতি নির্বাচিত হয়ে শামীম ওসমান ও তার চেলা-চামুন্ডাদের যথেষ্ট পরিমাণ উচিত শিক্ষা দিয়েছিলেন। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে শামীম ওসমানের দলের সিদ্ধান্ত বিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে বিরক্ত হয়ে গডফাদার হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছিলেন, “এটা তার দীর্ঘ ৩০ বছরের নেতিবাচক রাজনীতির উপাধি।” সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি এক দলীয় সমাবেশে বলেন, “নারায়নগঞ্জে একজন গডফাদার আছে যার কাজ হলো বিএনপি-কে নিয়ন্ত্রণ করা। তার এই অশুভ প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করা হবে।” বুঝা গেল নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একটি অংশের সাথে শামীম ওসমানের সুসম্পর্ক থাকলেও অন্য অংশ তাকে পছন্দ করে না। গত ৮ মে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ‘তকি’ হত্যা মামলায় সাংসদ শামীম ওসমান-কে গ্রেফতারের দাবি জানান নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম। প্রখ্যাত সাংবাদিক হালিম আজাদ একই দাবি উত্থাপন করে বলেন, “তকিকে হত্যা করার জন্য শামীম ওসমান তার ভাতিজাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিধায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে অবিলম্বে শামীম ওসমানকে গ্রেফতার করতে হবে। ” মানববন্ধনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, “একজন খুনির রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না।”

উল্লেখ্য যে, নারায়ণগঞ্জে একসময় এসপি হিসেবে কর্মরত ছিলেন স্বনামধন্য পুলিশ কর্মকর্তা হারুন। তিনি বর্তমানে ডিবি পুলিশের হেড হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে তার চাকরি কালীন সময়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, ভূমিদস্যুতা ইত্যাদি অপকর্ম কঠোর হস্তে দমন করেছিলেন। আর এ কারণে শামীম ওসমান ও তার চেলা-চামুন্ডারা পুলিশ কর্মকর্তা হারুনের উপর বেজায় নাখোশ ছিলেন। গত ১৫ মে তিনি পূনরায় নাসিক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় ডাঃ আইভিকে অভিনন্দন জানাতে তার বাসায় গিয়েছিলেন। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে প্রাক্তন সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম।

গত ৩০ এপ্রিল শনিবার নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের ৮ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে একটি মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ওসমান পরিবার। অনুষ্ঠানে শামীম ওসমানের একান্ত চিন্তে জিকির করার ভিডিও তৎকালে বেশ ভাইরাল হয়েছিল। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমার ভাই অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। সারারাত নামাজ পড়তেন। দরজা বন্ধ করে কোরআন খতম করতেন।’ ভাইর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। জনশ্রুতি রয়েছে যে, নাসিম ওসমানের মৃত্যুর কারণে ওসমান পরিবারে পারস্পরিক হতাশা বিরাজমান।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমানের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতা প্রাক্তন সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে গত ২১ মে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সভায় এড. আবদুল বারী ভূইয়া সাংসদ শামীম ওসমানের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন,”সরকার দলীয় একজন প্রভাবশালী নেতার ষড়যন্ত্রে এসব ঘটনা ঘটছে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তার উদ্দেশ্য হলো রাজনীতির মাঠ থেকে যে কোন উপায়ে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন-কে সরিয়ে দেওয়া, যাতে আগামী নির্বাচনে তিনি খালি মাঠে গোল দিতে পারেন।

গত ২৮ জুন মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির জন্য প্রদত্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে সাংসদ শামীম ওসমান বলেন, “গত বার কাউন্সিল নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্যানেলের বিপরীতে আরেকটি প্যানেল দেওয়া হয়েছিল। এতে আওয়ামী লীগেরই লাভ হয়েছে, আমরা বিজয়ী হয়েছি। আগে প্রতি একশত বছরে একজন মোস্তাক জন্ম নিতো, আর এখন থানায় থানায় মোস্তাক।” তার এই বক্তব্যে একমত পোষণ করে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দীপু বলেন,”গত নাসিক নির্বাচনে আমরা তার বক্তব্যের প্রমাণ পেয়েছি। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে হেফাজত, বিএনপি-জামায়াতকে কে বা কারা প্রতিষ্ঠিত করছে তা নারায়ণগঞ্জ বাসী ভালো ভাবেই প্রত্যক্ষ করছে। আমি যখন নারায়ণগঞ্জ বারে নির্বাচন করেছি তখন আওয়ামী লীগ নেতা মাননীয় মন্ত্রী গোলাম মোস্তফা গাজী, নেতা নজরুল ইসলাম বাবু, আনোয়ার হোসেন আমাকে সার্বিক সমর্থন ও সহযোগিতা করেছেন। এ জন্য আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

এক সময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এড. আনিসুর রহমান দীপুর বিরুদ্ধে সাংসদ শামীম ওসমান ও তার চেলা-চামুন্ডারা কেন উঠে পড়ে লেগেছে এমন প্রশ্নের জবাবে এড. দীপুর একজন জুনিয়র এই প্রতিবেদককে বললেন, “উপকারিকে বাঘে খায়। নারায়নগঞ্জে যখন ৭ খুনের ঘটনা ঘটলো তখন ঘটনার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনের সাথে সাংসদ শামীম ওসমানের একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়ে পড়ে। এতে খুনের ঘটনায় শামীম ওসমানের জড়িত থাকার সন্দেহ প্রবল হতে থাকে। তখন এড. দীপু অনেক দৌড় ঝাপ দিয়ে কাঠ খড় পুড়িয়ে খুনের মামলা হতে সাংসদ শামীম ওসমানের নাম বাদ দিতে সক্ষম হন্। তারই পুরস্কার তিনি এখন এড. দীপুকে দিচ্ছেন। তাছাড়া আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় থাকে না শামীম ওসমানও তখন দেশে থাকতে পারেন। গত বিএনপি সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে প্রায় ২৫০ মামলা ছিল। এড. দীপু এসব মামলা বিনা পয়সায় খেটে তামাদি করতে সক্ষম হন্ এবং পরবর্তীতে ঐসব মামলার কাগজপত্র আমরা মাঠে জমা করে আগুন দ্বারা জ্বালিয়ে দেই। এতে শামীম ওসমান কলংক মুক্ত হয়ে বন্ধুকে প্রতিদান স্বরূপ বিভিন্ন ফোরামে বিরোধিতা করে আসছেন। আসলে শামীম ওসমান যে ধ্যান জ্ঞান নিয়ে বড় হয়েছেন তার বাইরে তিনি যান কি-ভাবে!” জুনিয়র এডভোকেট আরো বলেন, “এড. দীপু সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা ইত্যাদি মোটেও পছন্দ করেন না। এটা তার পারিবারিক ঐতিহ্য। কিন্তু শামীম ওসমান, তার চেলা-চামুন্ডারা তকি হত্যা, ভূমিদস্যুতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ বহুবিধ কর্মে লিপ্ত। আর এসব কারণে তাদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে বহু মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে। এসব মামলা-মোকদ্দমায় দীর্ঘ সূত্রীতা সৃষ্টি এবং এক সময় তামাদি করতে হলে নারায়ণগঞ্জ বারে নতজানু জ্বি হুজুর মার্কা একটা কমিটির খুব প্রয়োজন। সেকারণেই বার নির্বাচনে এড. দীপুর অংশ গ্রহণে তাদের আপত্তি।”

তাছাড়া তিনি ও পুত্র সামগ্রিক হজ্জ কার্যক্রমকে নিজদের প্রচার প্রপাগাণ্ডায় ব্যবহার করতে ভুলেন নাই। শামীম ওসমান মসজিদে নববীতে দাড়িয়ে বলেছেন, ” আমি এখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেছি, নারায়ণগঞ্জ বাসীর জন্য দোয়া করেছি ইত্যাদি। অর্থাৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পবিত্র হজ্জকেও কাজে লাগাতে ভুলেন নাই। তাছাড়া তার পুত্র এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমি বাবার জন্য মসজিদে নববীতে জায়গা রেখেছি। কিন্তু তিনি আসেন নাই। বাইরে বের হয়ে দেখি তিনি লোকজন পরিবেষ্টিত অবস্থায় আছেন ইত্যাদি। একজনতো উৎফুল্ল হয়ে বলছিলেন, দেশে শামীম ওসমানের সাক্ষাৎ পাই নাই, মদিনা শরীফে সাক্ষাৎ পেলাম। অর্থাৎ নিজ-প্রচার করার জন্য কোন সুযোগই হজ্জে গিয়েও তারা ছেড়ে দেন নাই।

হজ্জ থেকে ফিরে সাংসদ শামীম ওসমান এখনো তেমন কোন বক্তব্য প্রদান করেন নাই। গত ২১ জুলাই ডিভিসি নিউজের এক টকশোতে মার্জিত ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করেছেন। তারেক রহমানকে খাম্বা তারকে বলতে গিয়ে পিছিয়ে আসলেন। কিন্তু যথারীতি পদ্মা সেতুর সূত্র ধরে খালেদা জিয়াকে খোঁচা মারতে ভুলেন নাই।

পরিশেষে বলা যায় তওবা/হজ্জ উত্তর শামীম ওসমানের রাজনৈতিক ও সামাজিক আচরণ কেমন হবে তা জানতে আরো কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে ইতিপূর্বে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের বিবিধ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে থাকতে তার অনিহা পরিলক্ষিত হলেও এখন তিনি জেলা অথবা মহানগর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এতে তার উদ্দেশ্য হলো, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে তার বিরোধীরা যেন গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে না পারে। অনুৃমান করা যায়, লক্ষন ভালো নয়।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ

© ২০২৩ bongonewsbd24.com